সাইবার ঝুঁকিতে দেশের ১৫ খাত, সতর্কতার তাগিদ

প্রযুক্তি ডেস্ক: বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের ডোমেইন নিয়ে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বড় ধরনের সাইবার ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ১৫টি খাতের ৭৬৭টি ডোমেইন গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, প্রায় প্রতিটি ডোমেইনের গোপনীয় তথ্য বা ক্রেডেনশিয়াল ডিজিটাল মাধ্যমে উন্মুক্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের সাইবার নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়। ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় দেড় শতাধিক জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ জন ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য এবং ১৮ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক রেকর্ড বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সেমিনারে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, এ ধরনের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং তা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অনুষ্ঠানে ডার্ক ওয়েবে দেশের তথ্য উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং তা প্রতিরোধে করণীয় বিষয় নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরামর্শক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ রেসপন্স ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম সচিব মো. ইমরান খান এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।

আলোচকরা সাইবার অপরাধ রোধে এবং তথ্যের অপব্যবহার বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোরালো গুরুত্ব আরোপ করেন। সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, যে ঝুঁকিগুলো আমাদের চোখের আড়ালে থাকে, তা সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তাদের কোন তথ্যগুলো উন্মুক্ত হয়েছে তা চিহ্নিত করতে হবে এবং অপরাধীরা তার অপব্যবহার করার আগেই দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *