তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে সুন্দর বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, এ দেশের তরুণ সমাজের গতিশীল নেতৃত্বেই আগামী দিনের সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুবসমাজ বরাবরই সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনগুলোতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। রাজধানীর জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস’ শীর্ষক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সহস্রাধিক তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রূপকল্প তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার জানান যে, তারা এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেখতে চান যেখানে সুদৃঢ় আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকবে। কেবল ভালো ফলাফলের পেছনে অন্ধের মতো ছোটার দিন শেষ হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করে তিনি তরুণদের তাদের সুপ্ত মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে ইতিবাচক কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, কেবল জিপিএ অর্জনের চেয়ে তরুণদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও সুশিক্ষা অর্জন করা বেশি জরুরি, যা একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করবে। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ নানা সূচকে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও যুবসমাজের সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশটিকে আবার বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নিতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করেন যে, গত জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারীদের বড় একটি অংশই ছিলেন তরুণ। দেশের বড় বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পেছনে এই তরুণদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার ইতিহাস রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমালেও পরিশেষে দেশের টানে ফিরে এসে আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি উদীয়মান যুবসমাজকে উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি নির্মূলের লক্ষে তরুণদের আরও সোচ্চার হওয়ার এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সাথে পরিচিত হতে জাতীয় সংসদ অধিবেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন।

ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানানোর মানসিকতা তৈরির ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন যে, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকতেই পারে কিন্তু অন্যের যুক্তি অনুধাবন করার মানসিকতা থাকতে হবে। প্রকৃত নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, অন্যের মতামতকে জায়গা করে দেওয়ার মাঝেই সত্যিকারের নেতৃত্বের সার্থকতা নিহিত রয়েছে। এই পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হলে তবেই জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হবে। উক্ত উদ্বোধনী সেশনে অন্যান্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *