দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার, অর্ধেকের যোগ্যতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রায় ২৯ শতাংশই বেকার। এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য ডিগ্রি লাভ করা তরুণ-তরুণীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সময় সবচেয়ে বেশি জটিলতার মুখে পড়ছেন।

চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কেবল বেকারত্বের সংখ্যাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়, বরং কর্মসংস্থানের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় অর্ধেক উচ্চশিক্ষিত কর্মী এমন পেশায় নিয়োজিত আছেন যা তাঁদের প্রকৃত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি এবং অর্জিত দক্ষতার তুলনায় অনেক নিম্নমানের কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতার বড় ধরনের ফারাক থাকার কারণেই এই সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্মবাজারে প্রবেশ করতে গিয়ে উপযুক্ত সুযোগ না পেয়ে অনেক তরুণ বাধ্য হয়ে এমন সব পেশা বেছে নিচ্ছেন যেখানে তাঁদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। তা ছাড়া দেশের শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিক্য থাকায় চাকরির পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত বেকারত্বের পরিসংখ্যান দিয়ে শ্রমবাজারের সামগ্রিক দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার পূর্ণ চিত্র উপলব্ধি করা সম্ভব নয়।

ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আইএমএফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআইয়ের কারণে যেসব পেশায় প্রযুক্তির প্রভাব বেশি, সেখানে প্রচলিত কর্মীর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এর বিপরীতে এআই-সম্পর্কিত বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে এমন কাজের ক্ষেত্র দিন দিন প্রসার লাভ করছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পারলে দেশের তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকটে পড়তে পারে।

শ্রমবাজারের এমন নাজুক পরিস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করে কমিয়ে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই আর্থিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সামনের দিনগুলোতে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হতে পারে। পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা না গেলে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ হতাশার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *