নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান: কৃষিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই দেশের সমান মর্যাদার নাগরিক হিসেবে বসবাস করবেন। ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা কিংবা কোনো বিশেষ সম্প্রদায়কে হীনম্মন্যতায় রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। সম্প্রতি কুমিল্লা ধর্মসাগরপাড়ের দলীয় কার্যালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, এ দেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি মানুষই এই দেশের সমান অংশীদার বা ভূমিপুত্র। সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় বিধান অনুযায়ী একজন নাগরিকের যতটুকু অধিকার থাকে, অন্য সবার জন্যও ঠিক ততটুকু অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অধিকার কেউ দয়া করে কাউকে দেয় না, বরং নিজেদের অর্জিত অধিকার নিজেদেরই সচেতনভাবে ভোগ করতে হয়। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর তিনি এ সময় বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সামাজিক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, রক্ত বা মানবসত্তার বিচারে মুসলমান ও হিন্দুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং বিপদের দিনে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই মানুষের মূল ধর্ম। সমাজের একজন মানুষের প্রয়োজনে অন্যজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সব ধরনের বিভেদ দূর হবে এবং মানুষের পারস্পরিক আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, পূজা উদযাপনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও নিজেদের অসচ্ছল প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান যে, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হলে তা কঠোরহস্টে দমন করা হবে এবং এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেন। সবশেষে তিনি একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে সমানভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *