নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণ, এবার উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি পাউবোর

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণ করা জমিতে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের হাজারীগঞ্জ মৌজায় চেয়ারম্যান বাজারসংলগ্ন এলাকায় এই জবরদখলের ঘটনা ঘটছে, যা ষাটের দশকে বাস্তবায়ित উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬৬-৬৭ সালের ওই প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত সরকারি জমি দখল করে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় পাকা ও স্থায়ী স্থাপনা তোলার কাজ চলছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের উপকূলীয় বাঁধের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

পাউবোর পূর্বের লিখিত ও মৌখিক একাধিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উপেক্ষা করে অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে গত ২৭ আগস্ট ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি লিখিত নোটিশ পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং সমস্ত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে অভিযুক্ত মো. জুয়েল রাতের আঁধারে এবং গোপনে ইট-বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এনে কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার এই প্রবণতায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্প্রতি ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর ২১(১) ধারার বিধান অনুযায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়িত্ব রক্ষার্থে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া নদীর তীর বা বাঁধের সংলগ্ন জমিতে কোনো ধরনের ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম উপকূলীয় এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাঠামো দুর্বল করে দেয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

জারি করা চূড়ান্ত নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে ওই অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে জমি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের পর বিষয়টি লিখিতভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়কে অবহিত করার জন্যও বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই আদেশ অমান্য করা হলে কোনো ধরনের অতিরিক্ত নোটিশ ছাড়াই কঠোর আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে যে আর্থিক ব্যয় হবে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার অভিযুক্ত জবরদখলকারীকে বহন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *