অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সম্পর্ক নেই—বড় গবেষণায় দাবি

স্বাস্থ্য ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় জানা গেছে, অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। প্রায় চার লাখ ৬০ হাজারের বেশি বয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে গবেষণার শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের বয়স পঞ্চাশ থেকে একাত্তর বছরের মধ্যে ছিল এবং তাঁদের কারও শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলা এই গবেষণার মেয়াদকালে প্রায় দশ হাজার অংশগ্রহণকারীর মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার ধরা পড়ে।

বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসারকে মূলত কোলোরেক্টাল ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং গবেষণার সামগ্রিক ফলে দেখা গেছে অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে এর বড় কোনো সংযোগ নেই। তবে খাবারের ধরন এবং উৎস অনুযায়ী ফলাফলে উল্লেখযোগ্য ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার বা আঁশ এবং পূর্ণশস্য সমৃদ্ধ কিছু খাদ্যপণ্য যেমন সিরিয়াল, রুটি বা নির্দিষ্ট কিছু হিমায়িত মিষ্টির সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি কমার একটা তুলনামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বিপরীত দিকে, কোল্ড কাটস কিংবা হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গবেষণা দলের প্রধান ও ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের গবেষক এরিক্কা লফফিল্ড জানিয়েছেন যে ‘অতি প্রক্রিয়াজাত’ কথাটির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যে প্রোটিন, আঁশ, সোডিয়াম বা চিনির পরিমাণ মাপা যায় না। তাই শুধুমাত্র প্রক্রিয়াজাতকরণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে কোনো খাবার স্বাস্থ্যসম্মত কি না তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এছাড়া গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট অ্যান্ড্রু চ্যান উল্লেখ করেছেন যে খাদ্য ও ক্যানসারের এই সম্পর্ক বেশ জটিল এবং বর্তমান শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। খাবারে থাকা কৃত্রিম উপাদান বা অতিরিক্ত লবণ ও চিনির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, কুড়ি থেকে ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সীদের মাঝে এই রোগ শনাক্তের হার প্রতিবছর প্রায় তিন শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিষ্কার নয়, তবে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, কড়া প্রক্রিয়াজাত খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং পরিবেশগত বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং লাল মাংস বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *