প্রযুক্তি ডেস্ক: বাংলাদেশে অবৈধ ও নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারের বিস্তার রোধে ফের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে এই অননুমোদিত ডিভাইসগুলো দেশের বাজারে অবাধে প্রবেশ করায় একদিকে যেমন সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি টেলিকম খাতের নীতিনির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ সেট নেটওয়ার্ক থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পূর্বে স্থানীয় বাজারে বৈধ উপায়ে আমদানিকৃত বা উৎপাদিত স্মার্টফোনের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার জোরালো দাবি উঠেছে। সাধারণ ক্রেতা ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নিবন্ধিত বা আইএমইআই (IMEI) অনুমোদিত হ্যান্ডসেটের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে অননুমোদিত বা গ্রে-মার্কেটের ফোন কিনে থাকেন। ফলে, দাম কমানো ছাড়া হঠাৎ করে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা হলে তা সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে সেমিকন্ডাক্টর ও মেমোরি চিপের তীব্র সংকটের কারণে স্মার্টফোন উৎপাদন খরচ ইতিমধ্যেই অনেকখানি বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও, যার ফলে অদূর ভবিষ্যতে বৈধ ও ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় উৎপাদক ও বিপণনকারীরা। বিশ্ববাজারে যন্ত্রাংশের এমন চড়া মূল্যের প্রেক্ষাপটে ফোনের দাম কমানোর বিষয়টি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, একদিকে অবৈধ সেটের দৌরাত্ম্য বন্ধের কঠোর নীতি এবং অন্যদিকে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও চিপ সংকটের প্রভাবে তৈরি হওয়া বাজারের বাস্তবতার মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে এবং প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়িক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখেই এই স্পর্শকাতর সমস্যাটির একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জনবান্ধব সমাধান খুঁজে বের করার ওপর জোর দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


