দুর্গাপূজায় নাশকতার হুমকির তথ্য নেই, স্বার্থান্বেষী মহল চেষ্টা করতে পারে: ফায়ার সার্ভিস

জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের কোথাও কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নাশকতার হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তবে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন এই উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসও সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিগত বছরগুলোর উৎসবে ঘটে যাওয়া অগ্নিদুর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরা হয়। পূজার সময় অস্থায়ী প্যান্ডেল নির্মাণে বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি, নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার এবং অতিরিক্ত লোডের কারণে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় মণ্ডপের ধারণক্ষমতা বা বৈদ্যুতিক সক্ষমতা যাচাই না করেই এসি চালানো হয়, যা শর্টসার্কিটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি মণ্ডপের কাছাকাছি স্থানে খাবার রান্নার আয়োজন করার কারণেও অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পূজা কমিটিগুলোর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সংস্থাটির মোট ৫৩৮টি স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্থানীয় পূজা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁরা মণ্ডপগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আগুন লাগলে প্রাথমিক পর্যায়ে তা নেভানোর কৌশল শিখিয়েছেন। এছাড়া যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত যোগাযোগের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ১০২ হটলাইন নম্বর ব্যবহারের বিষয়টিও মণ্ডপ কমিটিগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।

সারাদেশে এবার ৩১ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ স্থাপিত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সেবা ও প্রস্তুতি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। সাতক্ষীরার মতো কিছু এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ অনুরোধে ফায়ার স্টেশনের সরঞ্জাম ও জনবল দুর্গম অঞ্চলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। সদর দপ্তরের পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়েও বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *