জাতীয় ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের উদ্যোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আইন ও নীতি বিষয়ক একটি মর্যাদাপূর্ণ উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। অক্সফোর্ডের ওরচেস্টার কলেজে আয়োজিত এই আবাসিক কর্মসূচিতে বিশেষ বৃত্তি নিয়ে অংশগ্রহণ করেন নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল মালেক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৪০ জন বিচারক, গবেষক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং নীতিনির্ধারকদের এই দলটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আইনি ও নীতিনিগত বিভিন্ন দিক নিয়ে নিবিড় আলোচনায় অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণটির মূল একাডেমিক কাঠামোতে সাতটি ভিন্ন অধিবেশন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে আধুনিক বিচার ব্যবস্থা এবং আইনি কাঠামোর ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের তদারকি বা হিউম্যান-ইন-দ্য-লুপ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ, তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জনসেবামূলক খাতে এআই প্রয়োগের আইনি জটিলতাগুলোও বিচারকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে এআই প্রকিউরমেন্ট এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোও এই কর্মশালার আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিযোগিতামূলক বাজার বজায় রাখতে প্রতিযোগিতা আইনের ভূমিকা নিয়েও বিশেষজ্ঞরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই এবং আইনি ক্ষতি প্রমাণের ক্ষেত্রে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রয়েছে, তা দূর করার উপায় নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়।
গত ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর মেয়াদে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক কর্মশালাটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আইন পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রশিক্ষণের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বিচার বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন এবং গবেষণার পথকে আরও সুগম করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, এই উচ্চতর প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া বিচারক আব্দুল মালেক কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কৃতি সন্তান, যা দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল অর্জন।


