শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিপকের, এখনো আটক সৌরভ ও রাঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকেকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারনামায় সই নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁর দলের অন্য দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এখনো আটক রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে নির্দিষ্ট একটি কর্মসূচি পালন করতে যাওয়ার সময় দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল এবং একই ঘটনায় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরাসহ বেশ কয়েকজনকেও আটক করা হয়েছিল।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্দোলন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ হলো, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যার ফলে ক্ষমতাসীন দল রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এবং শাসক দল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয় বরং নিয়মের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। ভুলবশত কারো নাম বাদ পড়ে থাকলে তাদের পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।

নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই দাবিতে নিয়মিত বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালন করছেন। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এসব বিক্ষোভ থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটকের ঘটনা ঘটে যা নিয়ে মানবাধিকার কর্মী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক কিছু পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে নারী অধিকার সংগঠনগুলো একটি বিক্ষোভ মিছিলও বের করেছিল।

দিল্লির বাইরেও এই আন্দোলন এখন অন্যান্য রাজ্যেও বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছে যা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দল বিরোধী জোটের আয়োজিত কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিয়ে এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে। এর ফলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলমান এই আন্দোলন কেবল একটি স্থানীয় প্রতিবাদের গণ্ডি পেরিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর এমন অবস্থানের কারণে আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *