বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফেরার পথ খুললে শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে: প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক: বিরোধিতা করার নামে দেশে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে বেঈমানির শামিল হবে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ওসমানী উদ্যানে জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ এবং আধুনিকায়নকৃত উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলগুলোর মূল কাজ গঠনমূলক সমালোচনা করা হলেও শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করার পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সব রাজনৈতিক দলকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সংসদীয় রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ রায়ের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো পেয়েছে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের দায়িত্ব। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়েরই মূল লক্ষ্য থাকা উচিত দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অর্থবহ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। এ সময় তিনি আরও বলেন, কেবল সরকারি দলই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে কিংবা কেবল বিরোধী দলই জনগণের কণ্ঠস্বর—এমন সংকীর্ণ মানসিকতা বা ধারণা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে মুক্ত হতে হবে। বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দূরত্ব ভুলে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ তাঁদের ছিল, যা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হতো।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন সরকারপ্রধান। তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতার মান সন্তোষজনক হলেও সরকারি হাসপাতাল এবং আবাসিক কলোনিগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চিকিৎসালয়গুলোতে রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ আবাসস্থল পরিচ্ছন্ন রেখে সমাজের সামনে পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের তাগিদ দেন তিনি।

পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরিস্কার পরিবেশ ও দূষণ মানবদেহে রোগবালাই বিস্তারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই একটি সুস্থ, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুমহান লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সদ্য আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যান এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভকে রাষ্ট্রীয় ও জনগণের মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদেরও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। উদ্যান ও স্মৃতিস্তম্ভের সৌন্দর্য এবং পরিবেশ সুরক্ষায় তিনি সবাইকে যত্নবান হওয়ার অনুরোধ জানান।

পরিশেষে, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, উভয় সংকটের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করবে, স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের পূর্ণ সুযোগ পাবে। জনগণের এই মৌলিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও কল্যাণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও নিজের বক্তব্যে আশ্বস্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *