বাজার ও বৈশ্বিক রাজনীতির সঙ্গে গ্রামীণ নারীর লড়াই

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের গ্রামীণ জনপদে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ এবং বৈশ্বিক নানা পরিস্থিতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার বিভিন্ন কারণে তাদের পৈতৃক বা আয়ের একমাত্র উৎস জমি হারিয়েছে, তাদের সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট আকার ধারণ করেছে। সহায়-সম্পত্তি হারানোর পর এই পরিবারগুলো এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পতিত হয়, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

কৃষি জমি বা বসতভিটা হারানোর পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এককালীন কিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো উপকারে আসে না। সাধারণত এই ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে দু-এক বছর কোনো রকমে সংসার চলে গেলেও পরবর্তীতে আয়ের স্থায়ী কোনো পথ থাকে না। এর ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়া এসব মানুষ চরম আর্থিক অনটন ও সামাজিক নানা জটিলতার আবর্তে আটকা পড়ে যায়।

পরিবারের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গ্রামীণ নারীদের ওপর নেমে আসে সবচেয়ে বড় মানসিক ও শারীরিক চাপ। সংসারের অভাব মেটাতে এবং সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে এসব নারী নিজেদের চিরাচরিত কাজের বাইরেও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও কম মজুরির কায়িক শ্রমে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে তাদেরকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শুধু স্থানীয় বাজার নয়, বৈশ্বিক রাজনীতির নানা সমীকরণ এবং পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও ঘুরিয়েফিরে আঘাত হানছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বাড়ার কারণে প্রান্তিক এই পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই বহুমুখী সংকটের স্থায়ী সমাধানে নীতিনির্ধারক মহলের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রামীণ নারীর এই সংগ্রাম আরও দীর্ঘ ও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *