মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে ইরান যুদ্ধ: বিশ্লেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী রূপান্তর ঘটাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পশ্চিমা আধিপত্যকে উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণের পথে হাঁটছে। বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক রামি খুরি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বর্তমান সংঘাতটি কেবল একটি সামরিক উত্তেজনা নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক কাঠামোর একটি বড় ধরনের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করছে।

বিশ্লেষক রামি খুরি উল্লেখ করেন যে, প্রায় এক শতাব্দী আগে পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর হাতে মধ্যপ্রাচ্যের যে রাজনৈতিক মানচিত্র তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। দীর্ঘ এক দশক পর এই অঞ্চলের মূল জনগোষ্ঠী অর্থাৎ ইরানি, আরব ও তুর্কিরা নিজেদের মতো করে নতুন এবং আরও বাস্তবসম্মত উপায়ে অঞ্চলটিকে সাজিয়ে তুলছেন। পুরোনো এই রাজনৈতিক বিন্যাস সবসময় পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করলেও স্থানীয় জনগণের মৌলিক অধিকার ও আকাঙ্ক্ষাকে সবসময় অবমূল্যায়ন করেছে। ফলে কাঠামোগত এই ত্রুটির কারণে ঐতিহাসিক ব্যবস্থাটি আজ চূড়ান্ত সংকটের মুখে পড়েছে এবং এর পরিবর্তন এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

এই রূপান্তরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো যে, প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই পরিবর্তনের চাবিকাঠি হাতে তুলে নিয়েছেন। রামি খুরি একে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন যে, আঞ্চলিক শক্তিগুলো এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে সচেষ্ট রয়েছে। শতবর্ষ পুরোনো কাঠামোর এই পতন এবং নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার উত্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে সম্পূর্ণ এক নতুন দিশা দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে ফিলিস্তিনের জনগণের দীর্ঘ লড়াই ও আন্তর্জাতিক সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তার মতে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং শেষ ঔপনিবেশিকতাবিরোধী লড়াই হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই বিশেষ আন্দোলনটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক নৈতিক সমর্থন এবং গভীর উদ্দীপনার জন্ম দিয়েছে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিকে আরও বেশি প্রভাবিত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *