মনে হচ্ছে ৬ মাসে বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি অপরাধ করে ফেলেছে!

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রস্তাবিত লংমার্চ কর্মসূচি ও দলটির শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই সমালোচনা করেন। মূলত জামায়াতের অভ্যন্তরীণ একটি ঘটনার জেরে দলের শীর্ষ নেতাদের মানসিকতা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নিজের সহযোদ্ধাদের প্রতি যাদের ন্যূনতম দায়িত্ববোধ নেই, তারা কীভাবে জনদাবির কথা বলে লংমার্চ করতে যায়—এমন প্রশ্নও তোলেন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ একটি সংবাদ সম্মেলন চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু সেই মুহূর্তে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। অসুস্থ সহকর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেয়ে তাদের কাছে মিডিয়া বা গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। এই অমানবিক ও উদাসীন দৃশ্য দেখে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধাদের প্রতি দলের শীর্ষ নেতাদের একধরনের চরম অবহেলা রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন অসুস্থ নেতার প্রতি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের শারীরিক ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর অনুষ্ঠান বন্ধ করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে না পাঠিয়ে চেয়ারে বসিয়ে রেখে পুনরায় বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নজিরবিহীন। এমন সংকটে একজন নেতার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিজেদের অবস্থান জাহির করার প্রবণতা দলটির অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সহযোদ্ধার জীবনের চেয়ে প্রচার-প্রচারণাকে যারা অগ্রাধিকার দেয়, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তাদের আন্তরিকতা কতটুকু—তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন।

পোস্টের শেষ অংশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জামায়াতের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন এই রাজনৈতিক সহকারী। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের হামলায় এক জামায়াত নেতা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও সে বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে জোরালো কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। অথচ সরকারের গত কয়েক মাসের কার্যক্রম নিয়ে তারা যেভাবে সোচ্চার হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে বিগত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ কোনো অপরাধই করেনি এবং বর্তমান বিএনপি সরকার তার চেয়েও বেশি অপরাধ করে ফেলেছে। নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার নীরব প্রতিবাদ এবং সরকারের বিরুদ্ধে অহেতুক সমালোচনার মাধ্যমে জামায়াত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *