ভারতে চলমান আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত সফরকালে দেশটির নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় এবং এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দেশটিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। তবে এসব বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানান যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ কূটনীতিক।

সংবাদ সম্মেলনে ভারতের আন্দোলন দমনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক উদ্বেগের প্রসঙ্গটি সামনে আনা হয়। এর জবাবে মার্কো রুবিও বিষয়টিকে একপ্রকার এড়িয়ে যান এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা করে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন যে, এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা কোনো বাস্তবসম্মত ভূমিকা পালন করেন না এবং তাদের কথার কোনো বিশেষ তাৎপর্য নেই। ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনা করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতিম এই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমীচীন হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও নাগরিকেরা নিয়মিত বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করে থাকেন। এটিকে তিনি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ এবং গঠনমূলক ভিন্নমতের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ভিন্নমতের নামে ইউরোপের কিছু দেশের মতো সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা সহিংসতার মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে কখনোই সমর্থন করা যায় না। মূলত এর ঠিক একদিন আগে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা ভারতের আন্দোলন দমনে পুলিশের লাঠিপেটা ও ইন্টারনেট বন্ধ করার মতো পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ হলো, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মূলত বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার একটি কৌশল। বিশেষ করে দরিদ্র, গৃহহীন এবং মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এই প্রক্রিয়ার কারণে ভোটাধিকার হারাচ্ছেন বলে তাঁদের দাবি। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও শাসকদল বরাবরই এই পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এই জটিল রাজনৈতিক বিতর্কে প্রবেশ না করার নীতিগত অবস্থান বজায় রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *