৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসবেন না —রাহুলকে অমিত শাহর কটাক্ষ

রাজনীতি ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে মন্তব্য করেছেন যে, আগামী অন্তত তিন দশক ধরে এই দলটি রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারবে না। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী পরাজয় এবং নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার ‘ভোট চুরি’র মতো ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সম্প্রতি দিল্লির একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন এবং বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার তীব্র مخالفت করার মূল কারণ হলো কংগ্রেস অবৈধ অভিবাসীদের নিজেদের ভোটব্যাংক হিসেবে রক্ষা করতে চায়। এসআইআর সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের এই নীতির বিরোধিতা করে আসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। মূলত অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কংগ্রেস এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানাচ্ছে বলে শাসক দলের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন।

এর আগে ভোটার তালিকার বিশেষ এই সংশোধন বাতিল করার দাবিতে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল বিরোধী জোট। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দিল্লির রাজপথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের পক্ষ থেকে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার কারণে সাময়িকভাবে সেই আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়লেও বিরোধীরা এই ইস্যুতে বারবার রাজপথ উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিরোধীদের এসব আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও ফলপ্রসূ নয় বলে উল্লেখ করেছেন অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র জনবিক্ষোভ তৈরি করে বা রাজপথে অবস্থান ধর্মঘট করে জনগণের মন জয় করা সম্ভব নয় এবং ভোটের রায় কোনোভাবেই রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন করা যাবে না। রাহুল গান্ধীকে সরাসরি লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন যে, যত আন্দোলনই করা হোক না কেন, ভোটারদের রায়ের ওপর কোনো প্রভাব ফেলা যাবে না এবং আগামী দিনেও তাদের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *