কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশির ভিসা আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ

প্রবাস ডেস্ক: কানাডায় ভিসা প্রক্রিয়াকরণে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উঠে এসেছে। দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থার অনুসন্ধানে দুই শতাধিক ব্যক্তির অনুকূলে ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪৩টি অস্থায়ী বসবাসের ভিসার আবেদন জমা পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই বিশাল অনিয়মের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করেছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় ইতোমধ্যে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয় আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কানাডার সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কুইবেকের মার্সিয়ে এলাকায় একটি আবাসিক ঠিকানায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের ভিত্তিতে প্রথম নজরদারি শুরু হয়। পরবর্তীতে অভিবাসন ও শরণার্থী সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট আলামত পাওয়ায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায়, আবেদনগুলোতে কানাডার স্থানীয় নাগরিকদের আমন্ত্রণকারী বা স্পন্সর হিসেবে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সুপরিকল্পিত উপায়ে জাল নথিপত্র তৈরি করে এই ভিসা আবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে চারজন ইতোমধ্যে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কানাডায় অবৈধ প্রবেশে সহায়তা করার ষড়যন্ত্র, অভিবাসন আবেদনে তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য প্রদানে প্ররোচনা দেওয়া এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনে মদদ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনিত এই অভিযোগগুলো এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় জানা যাবে।

উল্লেখ্য, এই জালিয়াতির প্রকৃত পরিধি ও গভীরতা নির্ধারণে কানাডার তদন্তকারীরা কুইবেক ও অন্টারিও প্রদেশের একাধিক স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জব্দকৃত নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির ব্যাপকতা ও জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে প্রায় আটটি গুরুত্বপূর্ণ ভিসা আবেদনকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রেখে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *