এআইতে বিদ্যুৎ ও পানির লুকানো খরচ

প্রযুক্তি ডেস্ক: আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করলেও এর নেতিবাচক দিক নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ডেটা সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ এবং পানি খরচ হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় এই লুকানো খরচের বিষয়টি সামনে এসেছে যা পরিবেশবাদীদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তা সচল রাখতে বিশাল পরিমাণ কম্পিউটিং ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। এই বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রসেসিংয়ের সময় সার্ভারগুলো অতিমাত্রায় গরম হয়ে যায়, যা ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পানির ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি এই বিশাল অবকাঠামো সচল রাখতে বিশাল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও আশার বাণী শুনিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ ও গবেষক। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি রাতারাতি পৃথিবীর সমস্ত বিদ্যুৎ বা পানির মজুদ শেষ করে ফেলবে না। বরং সঠিক পরিকল্পনা, উন্নত প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব ডেটা সেন্টার তৈরির মাধ্যমে এই সম্পদের অপচয় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। ইতোমধ্যে অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শক্তি সাশ্রয়ী হার্ডওয়্যার এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে।

ভবিষ্যতে এআই খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কঠোর নীতিমালার দাবি উঠছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে এই প্রযুক্তির সুফল ভোগ করা যায়, তা নিয়ে এখন নীতিনির্ধারক ও বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে কাজ করছেন। প্রযুক্তি শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশের সাথে পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিতে পারে। তাই সময় থাকতেই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *