সরকার বদলালেও দক্ষিণ লেবাননের দখল ছাড়বে না ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলে আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষিণ লেবানন থেকে দেশটির সামরিক দখলদারত্ব অবসান হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছেন না স্থানীয় সাধারণ মানুষ। বৈরুতের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সামরিক সংঘাতে জড়িত থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার ফলে ইসরাইলি রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের মনে গভীর সংশয় ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তাদের ধারণা, নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও লেবাননের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে তেলআবিবের দীর্ঘমেয়াদি আগ্রাসী নীতিতে বড় ধরনের কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষকদের মতে, ইসরাইলের রাজনৈতিক দল বা নেতাবৃন্দের কেউই লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না এবং দক্ষিণ লেবাননের এই অবৈধ দখলকে তারা কোনো ভুল বা রাজনৈতিক সংকট হিসেবেও বিবেচনা করছেন না। বরং ইসরাইলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোগুলো লেবাননের ভূখণ্ডে নিজেদের সামরিক অর্জন ও আধিপত্য বজায় রাখাকেই স্বাভাবিক বলে মনে করে। ফলে নির্বাচন এলেও দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রচারণায় লেবানন সংকট সমাধানের চেয়ে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাগত ইস্যুগুলোই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ ও দখলদারত্ব এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই সামরিক আগ্রাসনের ফলে ওই এলাকার লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন এবং বহু অবকাঠামো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লেবাননের ভেতরে ইসরাইলকে মোকাবিলার কৌশল নিয়ে নানা মতভেদ থাকলেও দেশটির সাধারণ মানুষের সিংহভাগই ইসরাইলকে তাদের প্রধান আঞ্চলিক শত্রু হিসেবে গণ্য করে থাকেন।

আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া গাদি আইজেনকোট নিজেও লেবাননে দীর্ঘদিন সামরিক অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং ধ্বংসাত্মক সামরিক কৌশলের প্রণেতা হিসেবে পরিচিত। ফলে নেতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে থাকা অন্য নেতারাও লেবাননে সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় স্থানীয়দের আশঙ্কা পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। গবেষকদের মতে, ইসরাইলি সমাজ ও রাজনীতির মূলস্রোতে ফিলিস্তিন বা লেবাননের জনগণের মানবাধিকারের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থাকে, যা প্রমাণ করে যে নেতানিয়াহু সরে গেলেও তাদের সম্প্রসারণবাদী নীতি সহজে বদলাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *