হেমন্তে বারান্দা ও ছাদবাগানে গাছের যত্ন যেভাবে নেবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে প্রকৃতিতে শুষ্ক আবহাওয়া ও ধুলাবালুর প্রভাব পড়তে শুরু করে। এর ফলে বাড়ির বারান্দা কিংবা ছাদের ছোট্ট বাগানটি কিছুটা নির্জীব হয়ে পড়তে পারে। গাছপালা সজীব ও সতেজ রাখতে এই সময় থেকেই কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যেকোনো বাগানের সঠিক পরিচর্যার ক্ষেত্রে পানি, মাটি এবং সূর্যের আলো হলো তিনটি মূল উপাদান। তাই গাছগুলোকে সুস্থ রাখতে এই উপাদানগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

গাছে পানি দেওয়ার সময় পাতার ওপর জমে থাকা ধুলোবালি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা উচিত। ঘরের ভেতরে থাকা গাছগুলোর পাতা একটি ভেজা কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে দিতে হবে। এই সময়ে অনেক গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে ঝরে পড়তে পারে। গাছ সুন্দর রাখতে এবং সঠিক পরিচর্যার অংশ হিসেবে এই শুকিয়ে যাওয়া পাতাগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া মাটিতে পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগাতে জৈব সার বা ঘরে তৈরি সার ব্যবহার করা যেতে পারে।

হেমন্তকালে গাছে অতিরিক্ত পানি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন হয় না। ঠান্ডা আবহাওয়ায় রাতের কুয়াশায় গাছের গোড়া এমনিতেই ভেজা থাকে, তাই দিনে একবার পানি দেওয়াই যথেষ্ট। টবের মাটি শুকনো পাতা বা খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রাখলে আর্দ্রতা বজায় থাকে। অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে সংবেদনশীল গাছগুলো বাঁচাতে সেগুলো ঘরের ভেতরে এনে রাখতে পারেন। তাছাড়া শীতের আগেই গাছের অপ্রয়োজনীয় ও মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

স্যাঁতসেঁতে ও অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশ গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। তাই রোদ উঠলে টবগুলো যথাসম্ভব রোদে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এই সময়ে গাছে বিভিন্ন পোকা বা ছত্রাকের আক্রমণ ঠেকাতে প্রাকৃতিক নানা উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। নিম তেল, রসুনের পেস্ট কিংবা হলুদ গুঁড়ার মতো ঘরোয়া টোটকা পোকার উপদ্রব কমাতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। প্রয়োজনে কোনো অভিজ্ঞ মালির পরামর্শ নিয়ে বাগান আরও সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *