অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম: রিজভী

বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি পণ্যের দাম সমন্বয় করা হলেও তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের এই পদক্ষেপে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে তেলের বর্ধিত মূল্য সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বর্তমান বাজার পরিস্থিতির নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি বিশ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনজীবনকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তুলবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে এই সমালোচনার জবাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল দাবি করে আসছে যে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখেই দেশে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য ছিল। সরকারের দাবি, অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এখনো তুলনামূলক সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দল এবং বিভিন্ন সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে কৃষিকাজ ও শিল্প উৎপাদনের প্রতিটি খাতেই খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদেরই এর চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হবে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *