অভিযোগ তদন্তে ১০ হাজার টাকা ঘুস দাবি এসআইয়ের, দিলেন বিকাশ নম্বর

শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় একটি পারিবারিক নির্যাতন মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আর্থিক দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাজিরা থানার এসআই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি একটি অভিযোগের তদন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুস চেয়েছেন। এই ঘটনার একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবার ইতি আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার সাত্তার শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিয়মিত তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি, বরং সম্প্রতি তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে ইতি আক্তার বাদী হয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর জাজিরা থানায় তার স্বামীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

থানা থেকে এই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই রফিকুল ইসলামকে। তদন্তের অংশ হিসেবে এসআই রফিকুল বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে তার এক নিকটাত্মীয় সৌদি প্রবাসী দুলাল মোড়লের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পুলিশ কর্মকর্তার কথোপকথন হয়। সেই ফোনালাপে এসআই রফিকুল ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা পাঠানোর জন্য নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরও প্রদান করেন। কথোপকথনটি ফাঁদ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে শোনা যায়, প্রবাসী দুলাল মোড়ল টাকা কমানোর অনুরোধ করলেও এসআই রফিকুল তা নাকচ করে দেন এবং আসামি ধরে আনা ও মীমাংসার জন্য খরচের কথা বলেন। তবে অভিযুক্ত এসআই রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে টাকা দাবির বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে কথা না বলে এড়িয়ে গেছেন। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদও বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান জানিয়েছেন যে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *