অর্থনৈতিক অঞ্চলে হংকংয়ের ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব

হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় নানা সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক খাতের বাইরে গিয়ে দেশের উদীয়মান খাতগুলোতে বিদেশি পুঁজি আকρষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি হংকংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হংকং জেনারেল চেম্বার অব কমার্সের (এইচকেজিসিসি) চেয়ারম্যান ড. জ্যাকব কামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন ইপিজেডে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিদেশি উদ্যোক্তারা যেন সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেজন্য ১০ বছরের কর অবকাশ, শুল্কমুক্ত মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর ওপরও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বর্তমানে মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের একটি বড় অংশ হংকং থেকে আসছে এবং দেশটিকে ষষ্ঠ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হংকংয়ের পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবকাঠামো, সবুজ জ্বালানি এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রস্তাবিত ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ তহবিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির পাশাপাশি বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উন্নয়ন চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হংকংয়ের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনটিকে বাংলাদেশে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে হংকংয়ের চেম্বারগুলোর যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হংকংয়ের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের শিল্প বহুমুখীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *