আজ থেকে আমানতের মূল টাকা ফেরত পাবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা

দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীরা সম্প্রতি নিজেদের জমা রাখা মূল অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা বিশেষ নির্দেশনার আলোকে সংগৃহীত আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে এই অর্থ পরিশোধের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া কয়েক দিন ধরে চলে এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সামান্য সময় লাগায় মূলত এই অর্থ বিতরণের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের কিছুদিন পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

গ্রাহকদের এই অর্থ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, অর্থ উত্তোলনের সুযোগ চালুর পর থেকে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার ব্যক্তি আমানতকারী আবেদন জমা দিয়েছেন। এসব আবেদনকারীর দাবিকৃত অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। গ্রাহকরা তাদের নিজ নিজ শাখা বা উপশাখায় গিয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন জমা দেন এবং প্রধান কার্যালয় থেকে নগদ অর্থের সংস্থান সাপেক্ষে সেই শাখাগুলোর মাধ্যমেই টাকা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল ব্যক্তি শ্রেণীর আমানতকারীরাই তাদের জমানো টাকার মূল অংশ (প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট) তুলতে পারছেন। তবে আমানতের ওপর অর্জিত মুনাফা বা লভ্যাংশ এই মুহূর্তে দেওয়া হচ্ছে না, যা পরবর্তী সময়ে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের আমানতকারীরা বর্তমান বিশেষ স্কিমের আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন না। আবেদনপত্রে গ্রাহকদের নিজ অ্যাকাউন্টে মোট জমার পরিমাণ, উত্তোলনের প্রত্যাশিত অঙ্ক এবং টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন অনিয়মে জর্জরিত এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ২০২২ সাল থেকেই ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী আমানতের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই পাঁচ ব্যাংককে একত্রিত করে নতুন ব্যাংকটি দাঁড় করানো হয় যার মোট মূলধন ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং যার একটি বড় অংশ সরকার কর্তৃক সরবরাহ করা হয়েছে। একীভূত হওয়া এই ব্যাংকগুলোর বিশাল অংকের ঋণের সিংহভাগই বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *