আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পাহাড়সম অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাষ্ট্রীয় এই দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থবিত্ত গড়ে তুলেছিলেন এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দুদক কার্যালয় থেকে আয়োজিত নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়। মূলত দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাবেক এই মন্ত্রীর স্বনামে ও বেনামে সব মিলিয়ে প্রায় ১৮১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর বিপরীতে তার পারিবারিক অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ৮ কোটি টাকার কিছু বেশি বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় খুঁজে পেয়েছে দুদক। ফলে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে প্রায় ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার স্পষ্ট অসঙ্গতি বা অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। শুধু নিজের নামেই নয়, বরং অত্যন্ত সুকৌশলে নিজের ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যবহার করেও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

দুদকের অনুসন্ধানে আনিসুল হকের পাশাপাশি তার তিনজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এই তালিকায় রয়েছেন তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল। তাদের প্রত্যেকের নামে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকার শেয়ার এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকেই তাদের নামে বিশাল অঙ্কের শেয়ার ও ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডিআরের তথ্য উদঘাটন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

আনিসুল হক এবং তার এই তিন সহযোগীর ব্যাংক হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের ভয়ংকর চিত্রও উঠে এসেছে তদন্তে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মোট তেইশটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শত শত কোটি টাকা জমা এবং তা উত্তোলনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ব্যাংক হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি টাকারও বেশি অর্থ অস্বাভাবিকভাবে লেনদেন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। এই সমস্ত আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *