আমিরাতে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলতে মাহ্দী আমিনের বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং শ্রমবাজার আরও প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে এই বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হামুদি অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকের শুরুতেই বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করা হয়। বিগত দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের হাত ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যেভাবে সুসংহত হয়েছিল, আলোচনায় সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এছাড়া, সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে উত্থাপিত হয়। ওই শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত পোষণ করেন।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি এবং ট্রাকচালক হিসেবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, সাধারণ কর্মীর পরিবর্তে দেশটিতে আরও অধিক হারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনশক্তি খাতের পরিধি যেমন প্রসারিত হবে, তেমনি আমিরাতের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও দক্ষ কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন শিল্প খাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই খাতগুলোর অব্যবহৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ব্যাপারে দুই প্রতিনিধিদল অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *