‘আর্জেন্টিনা ছাড়ার সময় মেসি কতটা কষ্ট পেয়েছিল, তা সবাই দেখেছি’

খেলা ডেস্ক: দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে সম্প্রতি আলবিসেলেস্তেদের জার্সি তুলে রেখেছেন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। গত ৭ অক্টোবর মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তাঁর জাতীয় দলের হয়ে শেষ লড়াই, যেখানে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বিশ্বজয়ী এই তারকা। বিদায়বেলায় নিজের আবেগকে সংবরণ করতে পারেননি তিনি এবং কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বিশ্বখ্যাত এই ফরোয়ার্ড। তাঁর এই বিদায়ের মুহূর্তটি যে কতটা হৃদয়বিদারক ছিল, তা নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ খুলেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ক্লাব সতীর্থ লুইস সুয়ারেস।

ম্যাচশেষে এক আবেগঘন ভাষণে মেসি জানিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ও গৌরবের বিষয়। তবে দেশের হয়ে খেলার সময়টুকু স্মরণ করে সতীর্থ সুয়ারেস মন্তব্য করেছেন যে, জার্সি খোলার সময় লিওনেল মেসি কতটা গভীর বেদনা ও বিষণ্নতা অনুভব করেছিলেন, তা বিশ্ববাসী নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছে। একই সঙ্গে নিজের সর্বস্ব দিয়ে দেশের জন্য ট্রফি জেতানোর এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তিও কাজ করছিল তাঁর মনে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা থেকে শুরু করে ২০২২ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়—সবমিলিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে মোট চারটি বড় শিরোপা নিজের ঝুলিতে পুরেছেন তিনি।

জাতীয় দলের অধ্যায় চুকিয়ে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মাঠে নেমেও নিজের পুরোনো ফর্ম ধরে রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে দলীয় ৪-০ গোলের বড় জয়ের ম্যাচে লুইস সুয়ারেসের সঙ্গে তিনিও জোড়া গোল করে মাঠ মাতিয়েছেন। অতীতে বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সুবাদে তাদের যে দুর্দান্ত বোঝাপড়া গড়ে উঠেছিল, মার্কিন মুল্লুকে এসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত জাদুকরি পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ইন্টার মায়ামিকে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা এনে দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের অবিস্মরণীয় পথচলায় মেসি রেকর্ড গড়ে মোট ২০৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দেশের হয়ে মাঠে নেমে তিনি প্রতিপক্ষের জালে ১২৬ বার বল জড়িয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে করা একুশটি গোল। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় এসেও ২০২৬ বিশ্বকাপ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় দলের সাফল্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। দেশের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর এই প্রস্থান ইতিহাসের পাতায় এক চিরস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *