আলেমদের অন্যের ‘গেমের ঘুঁটি’ না হয়ে ‘নিজস্ব গেমের প্লেয়ার’ হতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় ডেস্ক: নির্বাচন ঘিয়ে এলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে আলেমদের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ বা কৃত্রিম দরদ দেখানোর প্রবণতা তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, ভোট সামনে আসতেই অনেক নেতা নিজেদের তুলনামূলক বেশি ধার্মিক বা কৃষক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন এবং এর পেছনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করে। সম্প্রতি রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তরুণ আলেমদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও পরবর্তী আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর স্মরণে প্রকাশিত ‘তুরাস’ পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আলেম-ওলামাদের ওপর নানা ধরনের দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই সময়ের নির্যাতন বা নিপীড়নের ইতিহাস নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক কাজ হয়নি, যা নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন।

আলেমসমাজকে কেবল অন্যের রাজনীতির হাতিয়ার বা ঘুঁটি না হয়ে নিজেদের শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির পরামর্শ দিয়ে এই রাজনৈতিক নেতা বলেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে নিজস্ব রাজনীতির পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কওমি সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে রাষ্ট্রের মূলধারার বিভিন্ন পেশায় আলেমদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিসরে তাঁরা আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।

সংখ্যালঘু ও পরমতসহিষ্ণুতার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধআওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলেই অন্য ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়—এমন একটি অসত্য রাজনৈতিক বয়ান অতীতে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আলেম-ওলামারা যেভাবে অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছেন, তাতে সেই অপপ্রচারের উপযুক্ত জবাব মিলেছে। আসন্ন দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাদের আচার-অনুষ্ঠানে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখতে আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে এসে তরুণ আলেমদের নিজস্ব গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরমতসহিষ্ণুতার চর্চা বাড়াতে হবে, যাতে কেউ আলেমদের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতার অভিযোগ তুলতে না পারে। ওই অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ ছাড়াও ওলামায়ে অ্যালায়েন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন এবং পরবর্তীতে অতিথিরা সবাই মিলে ‘তুরাস’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *