ইমাম-মুয়াজ্জিনের সরকারি সম্মানী ভাতায় মসজিদ কমিটির নেতার নাম

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের একটি জামে মসজিদের জন্য নির্ধারিত সরকারি মাসিক সম্মানী ভাতার তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীঘা জান্নাতুন নুর জামে মসজিদের প্রকৃত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বাদ দিয়ে সেখানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষসহ তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশের সব মসজিদের ধর্মীয় এই কর্মীদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই তালিকা তৈরি করা হয়। কিন্তু তালিকায় এই ধরনের গরমিলের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনার আলোকেই ঈশ্বরদী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক মসজিদের তালিকা চেয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় সাহাপুর ইউনিয়নের ওই মসজিদটির তালিকা প্রস্তুত করা হলেও সেখানে চরম অস্বচ্ছতার আশ্রয় নেওয়া হয়। মসজিদের নিয়মিত ইমাম মাওলানা আজিবার হোসেনের নাম বাদ দিয়ে সেখানে কমিটর কোষাধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম পিন্টু প্রামাণিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, মসজিদটিতে কোনো স্থায়ী মুয়াজ্জিন বা খাদেম না থাকা সত্ত্বেও দুটি ভিন্ন পেশায় কর্মরত দুই ব্যক্তির নাম ওই পদে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, কমিটির পক্ষ থেকে প্রণোদনার অর্থ আত্মসাৎ বা ভিন্ন খাতে ব্যবহারের অসৎ উদ্দেশ্যে এই ভুয়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় যাদের মুয়াজ্জিন ও খাদেম হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে শ্রমিক এবং সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত আছেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিয়ে এই ধরনের জালিয়াতি এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেছেন তারা। সাধারণ মুসল্লিদের মতে, কোনো ধরনের নিয়মনীতি বা স্বচ্ছতা না রেখে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে এই ভুয়া তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

তবে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকবর মোল্লা দাবি করেছেন ভিন্ন কথা, তার মতে ইমাম সাহেব আগে থেকেই অন্য একটি ভাতা পান বিধায় তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে কোনো মুয়াজ্জিন বা খাদেম না থাকায় অন্য দুজনের নাম দেওয়া হলেও ভাতার টাকা ব্যক্তিগতভাবে কেউ নেবে না বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে কমিটির সভাপতি ঢাকায় অবস্থান করায় পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞ বলে জানিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তালিকাটি মূলত মসজিদ কমিটিই তৈরি করে দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *