ইরানের নতুন অস্ত্র সক্ষমতা দেখে ‘বিশ্ব অবাক হবে’: আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তাদের কোনো মিত্র দেশ যদি ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে সেটির কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। এ ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের প্রচলিত প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণাত্মক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তেহরানের এই সামরিক নীতি পরিবর্তনের কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসির উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং কৌশলগতভাবে উন্নত অবস্থানে রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার পাশাপাশি শত্রুর বিরুদ্ধে জোরালো ও কার্যকর আঘাত হানার জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। এই প্রস্তুতি কেবল কথার কথা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক সমরাস্ত্রের এক বিশাল ভাণ্ডার।

ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অদূর ভবিষ্যতে তাদের নতুন সামরিক সক্ষমতা ও গোপন অস্ত্রের ভাণ্ডার উন্মোচিত হলে তা দেখে পুরো বিশ্ব বিস্মিত হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শত্রুর যেকোনো কুচক্রী পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে এই নতুন অস্ত্রশস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে তেহরান তাদের সামরিক শিল্পে অভূতপূর্ব আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের এই কঠোর বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তেহরান যে পিছু হটবে না, এই ঘোষণা তারই এক স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। সামগ্রिक পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা চলে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাসের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *