আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে একে একটি জাতীয় অপমান এবং ভয়াবহ ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী সিনেটর ক্রিস মারফি। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন, যেখানে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করা হয়। তার মতে, এই অপ্রয়োজনীয় সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাবে বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে এক অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানান এই ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর। তিনি অভিযোগ করেন, সফরকালে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেখানে কর্মরত শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের করুণ চিত্র কংগ্রেসের প্রতিনিধির কাছ থেকে আড়াল করতেই এই ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন।
সিনেটর মারফির ভাষ্যমতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সম্প্রতি তীব্র হামলা হয়েছে এবং এর ফলে কয়েক শ কোটি ডলার সমমূল্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন এই ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তব চিত্র গোপন করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা যাতে এই যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য ও ভয়াবহ পরিণতির কথা জানতে না পারে, সেজন্য একটি বড় ধরনের ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে ক্রিস মারফি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, এই সশস্ত্র সংঘাত কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে প্রকাশ করার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।


