ইসলামের জন্য ক্ষমতা ছাড়তে পারি, ক্ষমতার জন্য ইসলাম নয়: ফয়জুল করীম

ধর্ম ডেস্ক: ইসলামের স্বার্থে যেকোনো সময় ক্ষমতা ত্যাগ করা সম্ভব, কিন্তু ক্ষমতার লোভে কখনোই ধর্মকে ব্যবহার করা হবে না। সম্প্রতি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া শহীদ জিয়া মাঠে আয়োজিত এক বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির ভাণ্ডারিয়া সাংগঠনিক জেলা শাখা এই ধর্মীয় সভার আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে এই মাহফিলটি এক গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক সমাবেশে রূপ নেয়।

মাওলানা মুহাম্মদ সোলাইমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ প্রথিতযশা আলেম-ওলামারা। সভার এক পর্যায়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে একটি বিতর্কিত প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। সেখানে দাবি করা হয় যে ওই মন্ত্রী নাকি এই ওয়াজ মাহফিল বানচালের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এই বক্তব্যের জেরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

বিশেষ অতিথির ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোড মনির হোসেন আকন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম মল্লিক জমাদ্দারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ওই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাদের মতে, মাহফিল সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে, যা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মাহফিলের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ সোলাইমান মিয়া দ্রুত ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটান এবং এ বিষয়ে জনসমক্ষে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। তিনি স্বীকার করেন যে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনেই বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য চলে এসেছিল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সদিচ্ছার ফলেই মাহফিলটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

সবশেষে প্রধান অতিথি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পরিচালনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি টানা হয়। পরিশেষের এই মোনাজাতে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, অগ্রগতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন মহলের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মাহফিলটি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *