একজনকে বাঁচাতে নেমে নিখোঁজ চার, ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে চরলাখপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে নদীর পানিতে ডুবে চারজন নিখোঁজ হন। মূলত পরিবারের সদস্যদের আনন্দঘন মুহূর্তটি মুহূর্তের মধ্যেই বিষাদে রূপ নেয়, যখন নদীর তীব্র স্রোতে তারা তলিয়ে যেতে শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিকেলে মজিবুর শেখের ছোট মেয়ে শান্তা বাড়ির পাশের শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামেন এবং একপর্যায়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

শান্তাকে নদীর পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসেন তার বোনের স্বামী ওবাইদুল্লাহ এবং ভাগনে শান্ত। কিন্তু তাদের যৌথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নদীর ঘূর্ণাবর্ত ও স্রোতের কারণে তারাও পানিতে ডুবে নিখোঁজ হতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের উদ্ধার করার জন্য স্থানীয় এক তরুণ সৌরভসহ আরও কয়েকজন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নদীতে নেমে পড়েন। দুর্ভাগ্যবশত, উদ্ধারকারী দলের সদস্য সৌরভও নদী থেকে উঠতে পারেননি এবং প্রবল স্রোতের টানে তিনিও অন্যদের সাথে পানিতে তলিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে সেদিন সন্ধ্যায় শিবপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যার পর আলো স্বল্পতা এবং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে প্রথম দিনে উদ্ধারকারী দল কাউকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ঢাকা থেকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত একটি ডুবুরি দলকে ঘটনাস্থলে আনা হয়।

পরের দিন ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ডুবুরি দলের সমন্বয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে পুনরায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একে একে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ওবাইদুল্লাহ, শান্তা এবং স্থানীয় তরুণ সৌরভ। তবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিখোঁজ থাকা ১৭ বছর বয়সি কিশোর শান্তকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের অভিযান তখনও অব্যাহত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *