একটি চাকরির পেছনে ১,৪৩০ জন! সরকারি চাকরিতে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র

দেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন তরুণ কাজের সন্ধানে শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও সেই তুলনায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ফলে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় বেকারত্ব দূর করা তরুণদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরির প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ এবং নির্ভরতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি খাতের একটিমাত্র শূন্য পদের বিপরীতে গড়ে ১ হাজার ৪৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই তীব্র প্রতিযোগিতাই প্রমাণ করে যে দেশে চাকরিপ্রার্থীর তুলনায় সুযোগের পরিমাণ কতটা কম। সরকারি চাকরিতে প্রার্থীর সংখ্যা উপচে পড়ার মূল কারণ হলো এখানে তুলনামূলক চাকরির নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো এবং সামাজিক মর্যাদা।

অন্যদিকে, সরকারি খাতে পদের সংখ্যা সীমিত থাকার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি বা নিয়োগ প্রক্রিয়াও বর্তমানে বেশ ধীরগতির। অর্থনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই ও ব্যবসায়িক মন্দার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে রক্ষণাত্মক নীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে পড়াশোনা শেষ করে বের হওয়া বিপুল সংখ্যক তরুণ কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রমবাজারের এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে হলে দ্রুত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং উদ্যোক্তা তৈরি করার প্রক্রিয়াকে সহজ করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে বেকারত্বের এই পাহাড়সম চাপ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও যুব সমাজের ভবিষ্যৎকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *