একদিনে ৬৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ বেড়ে ফের ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক একদিনে রেকর্ড পরিমাণ সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার সুবাদে আবারও ট্রিলিয়নিয়ার ক্লাবে ফিরে গেছেন। তাঁর মালিকানাধীন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁর মোট সম্পদে এই বিশাল উল্লম্ফন দেখা গেছে। গত কিছুদিনে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৩ শতাংশ এবং ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে স্পেসএক্সের রেকর্ড পরিমাণ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও জারির পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার কীর্তি গড়েন। তবে পরবর্তীতে ওই কোম্পানির উচ্চ মূল্যায়ন নিয়ে বাজারে নানা ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হলে শেয়ারের দাম দ্রুতপাতে পতন ঘটে। এর ফলে বেশ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তাঁকে সেই শীর্ষ অবস্থান থেকে নিচে নেমে যেতে হয়েছিল।

চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ দিক পর্যন্ত ইলন মাস্কের সর্বোচ্চ সম্পদ থেকে প্রায় ৬০ হাজার কোটি বা ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হ্রাস পেয়েছিল। ব্লুমবার্গের বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনী ব্যক্তির তালিকায় থাকা ইলন মাস্ক ছাড়া অন্য যেকোনো একক ব্যক্তির পুরো নিট সম্পদের চেয়েও এই পতনের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। মূলত তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্থিতিশীল শেয়ারবাজারের কারণে তাঁকে এই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি উভয় প্রতিষ্ঠানের অসাধারণ ব্যবসায়িক সাফল্য ও ইতিবাচক অর্জনের ওপর ভিত্তি করে মাস্কের ভাগ্যাকাশে নতুন করে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা স্পেসএক্সকে মহাকাশ ও গোয়েন্দা খাতের সম্ভাবনা বাস্তবায়নের অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করায় এর শেয়ারের দাম প্রায় ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি, টেসলা কর্তৃপক্ষ তাদের তৃতীয় প্রান্তিকে আশানুরূপ গাড়ি বিক্রির সুসংবাদ দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

ব্লুমবার্গের বিলিয়নেয়ার ইনডেক্স বা সম্পদ সূচক অনুযায়ী, মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মোট সম্পদের প্রায় ৯৮ শতাংশেরও বেশি আসে মূলত স্পেসএক্স এবং টেসলা কোম্পানিতে থাকা তাঁর নিজস্ব শেয়ার থেকে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক বাজার সাফল্যই তাঁকে পুনরায় বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *