বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের ক্যারিয়ার ছিল আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে খেলার যে দর্শন তিনি লালন করতেন, তা আজও বাংলাদেশ দলের জন্য প্রাসঙ্গিক। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান দলের তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহিদ হৃদয়কে টেস্ট দলে সুযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিষেকের শুরুর দিকের ব্যর্থতায় তারা সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। বিশেষ করে তানজিদ তামিমের ধৈর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, যা তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভুল প্রমাণ করেন।
একইভাবে তাওহিদ হৃদয়কেও তার টেস্ট সামর্থ্য নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। জিম্বাবুয়ে সফরে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় অনেকের ধারণা ছিল, তার টেস্ট ক্যারিয়ার বুঝি শেষ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অবিস্মরণীয় ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে হৃদয় সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন। এমন বিশাল ইনিংসের পর তাকে টেস্ট দল থেকে বাইরে রাখার কোনো সুযোগই আর নেই বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
হাবিবুল বাশারের মতে, যেকোনো খেলোয়াড়কে বিচার করার জন্য মাত্র এক বা দুটি ইনিংস যথেষ্ট নয়; বরং পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে তাদের দক্ষতা যাচাই করা প্রয়োজন। হৃদয়ের এই ট্রিপল সেঞ্চুরি কেবল তার নিজের সামর্থ্যই প্রমাণ করেনি, বরং সমালোচকদের তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী টেস্ট সিরিজগুলোতে তাওহিদ হৃদয়ের লাল বলের দলে অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।


