বিনোদন ডেস্ক: অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ চলে আসছে। বিশেষ করে পূজার ছুটির মতো উৎসবের সময়ে যাত্রার ১০ দিন আগে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। অনেক যাত্রী সঠিক সময়ে অনলাইনে যুক্ত হয়েও কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে চরম হতাশার মুখোমুখি হন। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ ও টিকিট উধাও হয়ে যাওয়ার নেপথ্য রহস্য নিয়ে সম্প্রতি আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশ দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে টিকিটের সংকটের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার আশফাক নিপুন। তিনি জানান, পূজার ছুটিতে তাঁর অসুস্থ সেজো মামা ও পরিবারকে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। মামার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বাসের পরিবর্তে ট্রেনে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং যাত্রার ১০ দিন আগে অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য সকাল থেকেই প্রস্তুতি নেন তিনি। নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করে সিট সার্চ করার পর চোখের পলকেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখে তিনি বিস্মিত হন।
নির্মাতা তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, একটি মাত্র টিকিট সিলেক্ট করা থেকে শুরু করে ওটিপি প্রদান এবং পেমেন্ট সম্পন্ন করে নিশ্চিত করতে যেখানে স্বাভাবিকভাবে অন্তত ছয় থেকে সাত মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে দুটি ট্রেনের সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অত্যন্ত দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও এত কম সময়ে সব টিকিট কীভাবে নিঃশেষ হতে পারে। এই ঘটনাকে তিনি কল্পকাহিনির সঙ্গে তুলনা করে তীব্র ব্যঙ্গ করেন এবং রেলওয়ের অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ত্রুটি বা অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেন।
আশফাক নিপুন তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার বদল হলেও রেলওয়ের টিকিট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কোনো দিনই কমে না। ক্ষমতাশালী এই চক্র সব সরকারের আমলেই বহাল তবিয়তে থেকে সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে কালোবাজারি চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সফটওয়্যার পরিবর্তন বা মন্ত্রী বদল হলেও এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে কেউ স্পর্শ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন এই নির্মাতা। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যেকোনো সরকার যদি বিমানবন্দর ও রেলওয়ের এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে পারে, তবে তিনিই তাদের সর্বকালের সেরা সরকার হিসেবে স্বীকার করে নেবেন।


