দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট এবং অবকাঠামোগত নানা জটিলতা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই এখনো তাদের নিজস্ব বা স্থায়ী ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে পারেনি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য যে ধরনের ল্যাব ও গবেষণাগার থাকা প্রয়োজন, তার অনেক কিছুই অপ্রতুল রয়ে গেছে। বহু প্রতিষ্ঠানেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক পদ শূন্য পড়ে আছে। তা সত্ত্বেও নীতিনির্ধারক মহলের পক্ষ থেকে নতুন আরও কয়েকটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করছেন, পূর্বের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত ও একাডেমিক সমস্যার সমাধান না করে নতুন কলেজ স্থাপন করা হলে সামগ্রিক চিকিৎসা শিক্ষার মান আরও অবনতির দিকে যাবে। কারণ পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সুযোগ-সুবিধা ছাড়া শুধু ভবন বা নামমাত্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে তা কোনো সুফল বয়ে আনবে না। বরং এতে চিকিৎসা খাতের সামগ্রিক মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, নতুন করে প্রতিষ্ঠান বাড়ানোর আগে বর্তমান ১৬টি সংকটপীড়িত সরকারি মেডিকেল কলেজের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা উচিত। প্রশাসন যদি শিক্ষক ঘাটতি পূরণ এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে মানসম্মত চিকিৎসক তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


