এনসিপিতে ‘সুপার সিক্স’ নামে কোনো ফোরাম নেই: সারোয়ার তুষার

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) ‘সুপার সিক্স’ নামে কোনো ফোরামের অস্তিত্ব নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দলটি। সম্প্রতি দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এনসিপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়ে কিছু মহলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা আদতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি অপচেষ্টা মাত্র।

দলের মিডিয়া, প্রচার ও ব্র্যান্ডিংবিষয়ক উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির একমাত্র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হলো রাজনৈতিক পর্ষদ। এই পর্ষদটি মোট ষোলোজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়েছে, যারা দলের সামগ্রিক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করে থাকেন। দলের অভ্যন্তরীণ শৃংখলা বজায় রাখতে এবং কর্মীদের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখতে এই পর্ষদের সঠিক গঠন সম্পর্কে সবাইকে অবগত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এই রাজনৈতিক পর্ষদের ১৬ জন বিশিষ্ট সদস্য হলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ, আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফ আদিব, আতিক মুজাহিদ, হান্নান মাসুদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হোসেন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম। মূলত এই নেতারাই দল পরিচালনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন এবং তাদের বাইরে বিশেষ কোনো ক্ষমতার বলয় নেই।

এর আগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত দলের এক সাধারণ সভায় সাংগঠনিক কাঠামো ও কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে গত অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদিত হওয়ার পর থেকেই দলের শীর্ষ পদগুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বজায় রেখে কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুব শীঘ্রই পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। প্রস্তাবিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেনের পদ অপরিবর্তিত থাকছে। এছাড়া মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্রের মতো পদগুলো বিলুপ্ত করে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট এই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা প্রকাশ করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *