ওএমএসের চাল-আটা বিক্রির বরাদ্দ হ্রাসে খাদ্যনিরাপত্তা নেটওয়ার্কের উদ্বেগ

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি অর্থবছরে খোলাবাজারে বিক্রয় বা ওএমএস কর্মসূচিতে চাল ও আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা এবং ভর্তুকি কমানোর সরকারি পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক বা খানি বাংলাদেশ। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, এই খাতে চাল ও আটা উভয়েরই বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে ওএমএসের মাধ্যমে চাল বিক্রি প্রায় একুশ শতাংশ এবং আটা প্রায় বাইশ শতাংশ কমানো হয়েছে, যা সম্মিলিতভাবে প্রায় এক লাখ তেষট্টি হাজার টন কম। পাশাপাশি, ওএমএস খাতের ভর্তুকি বরাদ্দ চার হাজার ৯৬ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে তিন হাজার চার১১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রায় সতেরো শতাংশ হ্রাসের সমান। সামগ্রিক খাদ্য খাতের মোট ভর্তুকিও এর আগের বছরের তুলনায় কমিয়ে আনা হয়েছে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শহরাঞ্চলে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ শহরের অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর একটি বড় অংশ কোনো ধরনের সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় আসে না। খোলাবাজারে ওএমএসের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা পাওয়া যাওয়ায় শহরের কম আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেত। কিন্তু বরাদ্দ হ্রাসের ফলে সাধারণ বাজারে চাল ও আটার চড়া দামের কারণে এসব পরিবারকে এখন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে, যা তাদের জীবনযাত্রার মানকে আরও সংকুচিত করবে।

খাদ্য বাবদ বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে এসব পরিবারকে তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের খরচ কমাতে বাধ্য হতে পারে কিংবা তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। এছাড়া ওএমএস কর্মসূচি বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, ফলে সরকারি সরবরাহ কমলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওএমএসে চাল ও আটার বরাদ্দ আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা, বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে ডিজিটাল তদারকি জোরদার করার জোরালো সুপারিশ জানিয়েছে খানি বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *