কয়েক দশক ধরে ছিলেন বন্ধু, একটি ডিএনএ পরীক্ষা জানালো তারা বোন

ছোটবেলায় ভিন্ন পরিবারে দত্তক নেওয়া এবং নেদারল্যান্ডসে একই এলাকায় বেড়ে ওঠা দুই নারীর জীবনে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর সত্য উন্মোচিত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে বন্ধু হিসেবে পথ চলার পর একটি সাধারণ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন যে তারা জৈবিকভাবে প্রকৃত দুই বোন। শৈশবের সেই পরিচয় এবং দীর্ঘদিনের সখ্য যে রক্ত সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা এতদিন তাদের কারোরই জানা ছিল না।

ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই দুই নারীকে তাদের শৈশবেই আলাদা পরিবারের কাছে দত্তক দেওয়া হয়। এরপর ভাগ্যের চাকা ঘুরে তাদের ঠিকানা হয় ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভৌগোলিক দূরত্ব বা ভিন্ন পরিবারে লালিত-পালিত হলেও তারা একে অপরের কাছাকাছি অঞ্চলেই বড় হয়েছেন এবং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে একটি গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে এসে কৌতূহলবশত নিজেদের শিকড় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেন এই দুই নারী। সেই লক্ষ্যেই তারা একটি কমার্শিয়াল ডিএনএ টেস্ট বা বংশগতির পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মূলত তাদের জৈব পরিবার বা পৈতৃক উৎস সম্পর্কে কিছু তথ্য উদ্ধার করা, যা তাদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত কৌতূহল দূর করতে পারে।

তবে পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর যে তথ্য সামনে আসে, তা তাদের এবং তাদের পরিচিতজনদের সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ করে দেয়। ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা কেবল সাধারণ বন্ধু নন, বরং একই মা-বাবার পেটের দুই বোন। দীর্ঘকাল ধরে বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে সময় কাটানোর পর এই আকস্মিক ও চমকপ্রদ সত্য আবিষ্কার তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বিস্ময় হয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *