কুয়েতের আকাশসীমায় ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর দেশটির সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে শত্রুতাপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলো ভূপাতিত করা হচ্ছে। কুয়েতের বিভিন্ন স্থানে শোনা যাওয়া বিকট বিস্ফোরণের শব্দ মূলত এই প্রতিরক্ষা তৎপরতারই অংশ বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সদর দপ্তর ও আবাসন লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। তেহরানের ভাষ্যমতে, দেশটিতে উপস্থিত মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির প্রতিবাদেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং তারা অবিলম্বে কুয়েত থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পারদ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। লরাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলমান এই সংঘাতের রেশ এখন কেবল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোও নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হওয়া এই সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


