কেন নতুন পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তি ভারতকে ক্ষুব্ধ করে তুলছে

হিমালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর একটি পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে সীমান্ত নির্ধারণ করেছে চীন ও পাকিস্তান। ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যন্ত অংশে সম্প্রতি এই দুই প্রতিবেশী দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সীমানা চূড়ান্ত করেছে, যা নিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে এই ভূখণ্ডকে নিজেদের সার্বভৌম অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং এই অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীনের যৌথ কোনো কর্মকাণ্ডকে বরাবরই অবৈধ ও অযৌক্তিক হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

ঐতিহাসিক এই প্রেক্ষাপটের কারণে বেইজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এই নতুন সীমান্ত চুক্তিটি স্বাভাবিকভাবেই ভালোভাবে নেয়নি নয়াদিল্লি। গত কয়েক দশক ধরে ভারত হিমালয়ের এই বিতর্কিত সীমানা পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে এবং কোনো অবস্থাতেই এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে দিল্লি তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা স্বার্থের প্রতি একটি প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সীমান্ত চুক্তির পেছনে কেবল ভৌগোলিক নির্ধারণ নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক নানা কৌশলগত সমীকরণও জড়িত রয়েছে। এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে এবং অর্থনৈতিক করিডোরসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্ন করতে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দিল্লির পক্ষ থেকে এই চুক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরাশক্তির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলা যায়, এই সীমান্ত নির্ধারণ কেবল দুটি দেশের মধ্যকার বিষয় নয়, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের আপত্তির পরও চীন ও পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এই অঞ্চলে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্রতর হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। ভবিষ্যতে এই বিরোধ কীভাবে কূটনৈতিক বা অন্যান্য মাধ্যমে সমাধান হয়, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশারদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *