কেন রিটেইল ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

বাংলাদেশে দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আর্থিক সেবা দিয়ে আসা স্বনামধন্য বিদেশি ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ তাদের কার্যক্রমের একটি বড় অংশ গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকটি দেশের রিটেইল ব্যাংকিং তথা সাধারণ গ্রাহক সেবা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা বা সিএমএসএমই খাতের ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি বিক্রি করে দেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। দীর্ঘ দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির এমন সিদ্ধান্তে দেশের ব্যাংকিং খাতে বেশ বড় ধরনের আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যাংকিং খাতের সাম্প্রতিক পরিবর্তনশীল নীতির কথা বিবেচনা করেই ব্যাংকটি এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মূলত রিটেইল ও ক্ষুদ্র ঋণ খাতে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জটিলতা এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের করপোরেট ব্যাংকিং এবং প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবামূলক কার্যক্রম আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমল থেকে সুদীর্ঘ ১২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে সফলতার সঙ্গে নিজেদের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। দেশের বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে তারা অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সাধারণ মানুষ এবং উদীয়মান ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঝে তাদের বিভিন্ন আর্থিক সেবা বেশ জনপ্রিয় হলেও, বর্তমান ব্যবসায়িক কৌশল বদলের অংশ হিসেবেই রিটেইল খাত থেকে সরে আসার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে, ব্যাংকটির রিটেইল ও সিএমএসএমই ব্যবসা বিক্রির এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কারা যুক্ত হতে পারে কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে এই পোর্টফোলিও হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এই বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে। তবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো একটি বড় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ গ্রাহক এবং এই খাতের অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *