খুলনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ-বিএনপির মধ্যে ডিলারশিপ ভাগাভাগি

রাজনীতি ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খুলনার ডুমুরিয়ায় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের মধ্যে সার ডিলারশিপ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এমনকি সার বিক্রির জন্য নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা করে বরফকলকে গোডাউন এবং সিমেন্ট ও মিষ্টির দোকানেও সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বঞ্চিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

খুলনার এই ঘটনায় দেখা গেছে, ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপি নেতার স্ত্রী ডিলারশিপ পেলেও তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদকের ভাইয়ের সিমেন্ট দোকানে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন। অন্যদিকে মাগুরখালী ইউনিয়নের ডিলার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিজের মিষ্টির দোকানে সার বিক্রির সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ডিলারদের অনেকেই নিয়মিত এলাকায় থাকেন না এবং তারা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবেদনের তথ্যের সঙ্গে সরেজমিন পরিদর্শনে গরমিল পেলে এবং ভুল তথ্যের প্রমাণ মিললে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।

এদিকে টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহ থেকেও সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের খবর পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইলে কট্টর আওয়ামী সমর্থক, প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। ঝিনাইদহে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে নতুন ডিলার তালিকায়। সেখানে সরকারি চাকরিজীবী ও কলেজ শিক্ষকের নিকটাত্মীয় ছাড়াও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মীদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে জেলাজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরেও নতুন সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন স্থানে ডিলারদের নিজস্ব কোনো উপযুক্ত গুদাম বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকার পরও জালিয়াতির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে এই ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ত্যাগী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোথাও কোথাও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও বেশিরভাগ এলাকায় এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *