চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে, ভারতের সঙ্গে বাস্তবতা মেনে

দেশের জাতীয় স্বার্থকে সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি এক কূটনৈতিক বৈঠকে তিনি সরকারের বৈদেশিক নীতির এই মূল ভিত্তিটি তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুফল অর্জনের জন্যই বিভিন্ন পরাশক্তির সঙ্গে সুষম সম্পর্ক বজায় রাখাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান যে, বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক এখন এক নতুন ও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে বড় বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব দেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই ঘনিষ্ঠতা কোনো বিশেষ দেশের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি করছে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বাস্তবতার ওপর জোর দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই উল্লেখ করে তিনি জানান যে, পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের কৌশল। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোতে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়াকে কাজের মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, কোনো নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে ঝুঁকে না পড়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখার সনাতন নীতিতেই বাংলাদেশ অটল রয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী প্রতীয়মান করেন। দেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির তাগিদেই এই বহুমুখী কূটনীতি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে সফল ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *