জাপানের সঙ্গে কর্মসংস্থান চুক্তি, কর্মী নিয়োগ শুরু ১ এপ্রিল থেকে

অর্থনীতি ডেস্ক: জাপানের সঙ্গে শ্রমবাজারের পরিধি আরও প্রসারিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ বা ইএসডিপি-এমওসি শীর্ষক এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির আওতায় আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির উর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা জাপানি পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদে এই চুক্তি করা হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে সামগ্রিক মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্মীরা জাপানে স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা এবং উচ্চ বেতনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে নারী কর্মীদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা বা সন্তান প্রসবের কারণে কোনো বৈষম্য বা চাকরিচ্যুত করা যাবে না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় এই চুক্তির মূল কপি আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *