জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার

দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করেছে বর্তমান সরকার। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট জ্বালানি উৎসের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল থাকলে আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই খাতের ঝুঁকি কমাতে সরকার বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট উত্তরণে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার, যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভবনকে সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান যে, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সরকারি অফিস এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকেও সোলার সিস্টেমের অধীনে নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ হিসেবে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে চীন ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট একটি দেশের ওপর নির্ভর না করে একাধিক বিকল্প উৎস নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে।

দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রথাগত উৎসের বাইরে গিয়ে নতুন এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোর প্রতিও মনোযোগ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী জানান যে, জ্বালানি সংগ্রহের নতুন ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি আফ্রিকান বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাজ শুরু হয়েছে এবং সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে যেন দেশের অভ্যন্তরে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপে দেশের শিল্পায়ন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ওপরও অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, বাংলাদেশকে কেবল দুর্যোগ বা সংকটের দেশ হিসেবে পরিচিত না করে বরং এর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেশের এই নতুন অর্জন ও ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাগুলোকে জোরালোভাবে তুলে ধরার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *