টার্গেট ৪৩০, শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়!

খেলা ডেস্ক: পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের এক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচে দুই দল মিলে রানবন্যা বইয়ে দেয়, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে রাখবে। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলায় বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ইংলিশরা। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে এক বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা। এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের অবিশ্বাস্য এক নজির হয়ে রইল।

ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা বিপাকে পড়েছিল ইংল্যান্ড। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক, যিনি উপহার দেন এক ঐতিহাসিক ইনিংস। মাত্র ১১৬ বলে ২১টি চার ও ১০টি ছক্কার সাহায্যে তিনি ২০২ রানের এক মহাকাব্যিক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকান। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম কোনো ইংলিশ ব্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির বিরল কীর্তি গড়েন তিনি। তার সঙ্গে টম ব্যান্টন, জো রুট এবং উইল জ্যাকসদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪২৯ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়। এছাড়া জো রুট এই ইনিংসে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের আট হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

জবাবে ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শ্রীলঙ্কাও ইনিংসের শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল। তবে সেই প্রাথমিক চাপ পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়ার পথে দলকে নেতৃত্ব দেন পবন রত্নায়েকে। মাত্র ১০৬ বলে ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৩০ রানের অনবদ্য এক ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন অভিশকা ফার্নান্দো এবং দাসুন শানাকা, যারা প্রত্যেকেই মাত্র তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন। অভিশকা ৯৭ ও শানাকা ঝোড়ো গতিতে ৯৭ রান করে আউট হন।

ম্যাচের শেষ পর্যায়ে জয়ের জন্য চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানিথ লিয়ানাগের মাত্র ২৭ বলে অপরাজিত ঝোড়ো ৬১ রানের সুবাদে ৪৯.৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের পক্ষে জশ টং ৩টি এবং স্যাম কারান ২টি উইকেট শিকার করলেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে ব্যাটারদের প্রদর্শনী আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ক্রিকেট বিশ্বে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *