ট্রেনে উঠে হারিয়ে যাওয়ার ৬১ বছর পরও বাড়ি ফেরার স্বপ্ন

ছোটবেলায় একটি ভুল ট্রেনে চড়ে বসার কারণে জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। তখন তার বয়স এতই কম ছিল যে নিজের পরিবার বা গ্রামের নাম ঠিকমতো বলতে পারেননি তিনি। ছোট্ট সেই শিশুটি ট্রেনে চড়ে নিজের অজান্তেই সুদূর এক অচেনা গন্তব্যে পৌঁছে যায়। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় তার চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গিয়েছিল চিরচেনা শৈশব, মা-বাবার কোল এবং আপনজনদের মুখ।

পরিবারবিচ্যুত হওয়ার পর থেকে শুরু হয় তার সংগ্রামমুখর ও অনিশ্চিত জীবন। সহায়-সম্পত্তি ও আপন ঠিকানাহীন অবস্থায় তাকে দীর্ঘদিন কাটাতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে। কখনো ফুটপাত আবার কখনো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কেটেছে তার। শৈশব ও কৈশোরের সেই কঠিন দিনগুলোতে পেটের দায়ে তাকে বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করতে হয়েছিল। চারপাশের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই দেখতে দেখতে কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ ছয়টি দশক।

বয়সের ভারে শরীর ন্যুব্জ হয়ে এলেও মনের গভীর কোণে আজও জ্বলজ্বল করছে নিজের ঘরে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন। এত বছর পরও তার স্মৃতিতে অস্পষ্টভাবে বেঁচে আছে আপন মা-বাবার আদর আর গ্রামের মেঠোপথ। প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের কল্যাণে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের খুঁজে পাওয়ার খবর দেখে তার মনে নতুন করে আশা জেগেছে। তিনি আকুলভাবে প্রার্থনা করেন, জীবনের এই অন্তিম মুহূর্তে হলেও যেন তিনি তার আসল ঠিকানায় পৌঁছাতে পারেন।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি অনেক মানুষের মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু পাননি রক্তের কোনো সম্পর্কের কাউকে। তবুও নাড়ির টানে মন এখনও বারবার ফিরে যেতে চায় সেই ফেলে আসা শৈশবে। তার এই না পাওয়ার বেদনা এবং দীর্ঘশ্বাসের গল্প মানবজীবনের এক নির্মম ট্র্যাজেডির কথাই মনে করিয়ে দেয়। নিজ ঠিকানায় ফেরার এই অন্তহীন অপেক্ষা আর না পাওয়ার কষ্ট নিয়েই তিনি জীবনের বাকি দিনগুলো কাটিয়ে দিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *